ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, জুলাই বিপ্লবে প্রায় এক হাজার মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন। অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এই বিপ্লবকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। তিনি আজ শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে কক্সবাজারে হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসা মাঠে রিইউনিয়ন হাশেমিয়ান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, মুসলিম সমাজ বর্তমানে বহু ধারায় বিভক্ত। আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ঐক্য—মুসলমানদের ঐক্য এবং বাংলাদেশি জাতি-গোষ্ঠীর ঐক্য। মুসলমানরা যতদিন ঐক্যবদ্ধ ছিল, পৃথিবীতে রাজত্ব করেছে। কিন্তু যেদিন থেকে আমরা বিভেদ ও সংঘাতে জড়িয়েছি, সেদিন থেকে আমাদের শক্তি ক্ষয় হতে শুরু করেছে, এবং আমাদের পতন অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, সারা পৃথিবী আজ সংঘাত-বিক্ষুব্ধ। মুসলমানদের রক্ত ঝরছে। জেরুজালেম, আরাকান, সিরিয়া ও লেবাননে মুসলমানরা হত্যা হচ্ছেন। আমাদের দেশের অবস্থা তেমন ভালো নয়। এই মুহূর্তে ঐক্যই আমাদের একমাত্র শক্তি, এবং আমাদের এই শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। সকল মতভেদ ভুলে আমাদের একত্রিত হতে হবে। স্বাধীনতার ৫৩ বছরে যদি আমাদের আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধ হতো, তবে ইতিহাস নতুনভাবে রচিত হতে পারতো। অতীতে আমরা বারবার বিভেদের শিকার হয়েছি। তাই আমাদের অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন পথ রচনা করতে হবে।
ড. খালিদ বলেন, মুসলমানদের অনৈক্যের কারণেই বাগদাদ ধ্বংস হয়েছিল, হালাকু খান বাগদাদ দখল করতে পেরেছিল। পৃথিবীতে এখনও প্রায় ২০০ কোটি মুসলমান আছেন। যদি মুসলমানরা এক হতে পারে এবং ওআইসি ও আরব লীগকে শক্তিশালী ও কার্যকর করা যায়, তাহলে পৃথিবী নতুন পথের দিকে চলবে।
জুলাই বিপ্লবে আহতদের দুর্বিষহ অবস্থার কথা উল্লেখ করে ড. খালিদ বলেন, আমরা যদি মনে করি আমাদের আন্দোলন বা বিপ্লব শেষ, তা হলে ভুল হবে। আমাদের কাজ এখনও অনেক বাকি রয়েছে। যদি প্রয়োজন হয়, আমাদের আবারও মাঠে নামতে হবে।
ড. খালিদ আরো বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর একের পর এক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটেছে। সরকারের পথযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে নানা অপচেষ্টা চলছে, তবে সরকার সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি তাঁর কর্মকালের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন।
রিইউনিয়ন হাশেমিয়ান ২০২৪-এর আহ্বায়ক মাওলানা নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।