সকাল থেকে পুতুল নিজের ঘরে দরজা আটকে বসে আছে। সে রোজকার মত করে কলেজেও গিয়েছিল। হঠাৎ শরীর খারাপের অজুহাত দেখিয়ে বাসায় এসে সোজা নিজের ঘরে ঢুকে বসে আছে।
শরীর থেকে এখনো কলেজ ইউনিফর্ম খোলা হয়নি তার, মা আর সেদিকে নজর রাখতে আসেনি।
কিছুদিন আগে একটা নেইলপলিশ চুরির জন্য পুতুলকে মা অনেক বকেছে। পুতুল তার মামার বাসায় বেড়াতে গিয়েছিল, মামাতো বোনের অনেক দামী দামী কসমেটিক্স আছে। এতসব রেখে কিনা একটা নেইলপলিশ চুরি গেলো। পুতুলের মামাতো বোন ভীষণ রগচটা স্বভাবের।
কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলেনা। সে পুতুলকে আচ্ছা করে অপমান করে ছেড়েছে। তাই হয়তো সে অপমান ভুলতে না পেরে শরীর খারাপের নাম করে সকাল থেকে দরজা আটকে বসে আছে।
বেলা পেরিয়ে সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। পুতুল দরজাটা খুলছে না। রাত প্রায় সাড়ে এগারোটার দিকে দরজা ভাঙ্গার প্রচেষ্টা সফল হলো। দরজা খুলতেই মা চিৎকার দিয়ে মাটিতে পড়ে গেল। জ্ঞান ফেরার পর মা দেখলো ঘরে পুলিশ এসেছে। পুতুলের ঝুলন্ত লাশটা নামানোর বন্দোবস্ত চলছে।
“Kleptomania” একটি মানসিক রোগ। রোগী ছোটো ছোটো জিনিস চুরি করে, কিন্তু এতে তার কোন দোষ নেই। এই রোগ নিয়ে জন্মেছিল পুতুল। একটা সামান্য নেইলপলিশ সরিয়ে ফেলার অপমান সইতে না পেরে অবশেষে আত্মহত্যার পর বেছে নেয় সে। আজ সেই মানুষটা পৃথিবীতে নেই। রোগটা সম্পর্কে আশেপাশের মানুষগুলো যদি জানতো! পুতুল যদি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পেতো! পুতুল হয়তো আজও আমাদের মাঝে বেঁচে থাকতো।