বিশ্ব ইজতেমা ময়দান দখল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কামারপাড়া, আব্দুল্লাহপুর, উত্তরা সেক্টর-১০ এবং তৎসংলগ্ন তুরাগ নদীর দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকায় যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা এবং বিক্ষোভ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ডিএমপি কমিশনার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ২৯ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ১৮ ডিসেম্বর দুপুর ২টা থেকে উল্লিখিত এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০ ডিসেম্বর থেকে পাঁচদিনের জোড় ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবে সাদ অনুসারী মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। তবে তাদের প্রবেশ ঠেকাতে আগে থেকেই ময়দানে অবস্থান করছিলেন জুবায়ের অনুসারীরা।
এছাড়া, গাজীপুরে মাওলানা সাদ ও জুবায়ের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের বিচার এবং ইজতেমা ময়দান জুবায়েরপন্থীদের কাছে হস্তান্তরের দাবিতে জুবায়ের অনুসারীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ এলাকায় এ অবরোধ শুরু হয়, যা দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি করে।
টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান ও এর আশপাশে সংঘর্ষের পর কাকরাইল মসজিদ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ ও র্যাব। সংঘর্ষস্থলে সকাল থেকে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ৩টার দিকে দুই পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে তিনজন নিহত হন এবং অন্তত ৪০ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে আছেন—কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানার বাচ্চু মিয়া (৭০), ঢাকার দক্ষিণখানের বেলাল (৬০) এবং বগুড়ার তাজুল ইসলাম (৬৫)। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মাওলানা সাদ কান্ধলভির অনুসারীরা ইজতেমা ময়দান ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বুধবার সচিবালয়ে সরকারের পাঁচজন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর সাদ অনুসারী মাওলানা রেজা আরিফ সাংবাদিকদের জানান, সাদ অনুসারীরা মাঠ ছেড়ে গেলে সরকার এর দায়িত্ব গ্রহণ করবে।