আলভী মাহমুদ আলিফ প্রতিনিধি :
র্যাব-৮, সদর কোম্পানী বরিশাল এর একটি অভিযানিক দল অদ্য ২৯ মার্চ ২০২৫ ইং তারিখ ১২:০০ টার সময় ঝালকাঠি জেলার নলছিটি থানাধীন রায়পুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বহুল আলোচিত বরিশাল মহানগরের কোতয়ালী থানার নাবালিকা ধর্ষণ চেষ্টার অপবাদ দিয়ে প্রকাশ্যে পিটিয়ে সুজন হাওলাদার(২৩) হত্যা মামলার এজাহার নামীয় ১ নং আসামী মোঃ সাদ্দাম হাওলাদার (৩০), পিতা-আব্দুর রশিদ হাওলাদার, সাং-ধান গবেষণা রোড, সাগরদী, বিসিসি ২৪ নং ওয়ার্ড, থানা-কোতোয়ালি, জেলা-বরিশাল’কে আটক করে। র্যাব-৮, সদর কোম্পানী এবং র্যাব-১৩, সিপিসি-১, দিনাজপুর ক্যাম্প যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ২৯ মার্চ ২০২৫ ইং ৮.৩০ মিনিটের সময় ঠাকুরগাঁও জেলার সদর থানাধীন কলেজপাড়া এলাকা হতে উক্ত মামলার অন্যতম প্রধান আসামী মো: কাইয়ুম মুন্সী (৪৫), পিতা-আব্দুল মোতালেব মুন্সী, সাং-ধান গবেষণা রোড, সাগরদী, বিসিসি ২৪ নং ওয়ার্ড, থানা-কোতোয়ালি, জেলা-বরিশাল’কে আটক করতে সক্ষম হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ সাদ্দাম হাওলাদার (৩০)’সহ অন্যান্য আসামীরা ভিকটিম সুজন হাওলাদার(২৩)’কে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ১৫ মার্চ ২০২৫ ইং তারিখ দুপুরে পরিকল্পিতভাবে মোবাইলে ফোন করে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে, একই তারিখে বিকাল আনুমানিক ৫:০০ টার সময় আসামিরা পরিকল্পিতভাবে নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ সাজিয়ে বরিশাল মহানগরের কোতোয়ালী থানাধীন সাগরদী ধান গবেষণা রোডস্থ মাসুম জুয়েলার্স এর টিনশেড বিল্ডিং এর পিছনে ভিকটিমকে গাছের সাথে দুই হাত-পা বেঁধে লাঠি ও ইট দ্বারা নির্মমভাবে আঘাত করে এবং এলোপাথাড়ি মারপিট করে। স্থানীয় লোকজন কোতোয়ালি থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ভিকটিমকে উদ্ধার করে শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ ভর্তি করে। পরবর্তীতে, একই দিন অর্থাৎ ১৫ মার্চ ২০২৫ ইং তারিখ রাত ৮:০৫ মিনিটের সময় ভিকটিম হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।উল্লেখিত ঘটনায় ভিকটিমের পিতা মনির হাওলাদার (৫৫) বাদী হয়ে বরিশাল কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-৩৭, তারিখ-১৯ মার্চ ২০২৫ ইং উক্ত হত্যাকান্ডের ঘটনাটি উপস্থিত অনেকেই মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে যা দ্রুত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন অনলাইন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া ঘটনাটি প্রচার করে।
প্রকাশ্যে এ হত্যাকান্ড এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। ঘটনাটি র্যাব-৮, বরিশাল এর নজরে আসলে হত্যাকান্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি এবং ছায়াতদন্ত শুরু করে। হত্যাকান্ডের পর আসামীরা পালিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্বগোপন করে। র্যাব-৮, বরিশাল আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামীর অবস্থান সনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করে উক্ত মামলার এজাহার নামীয় ১নং আসামী মোঃ সাদ্দাম হাওলাদারকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ সাদ্দাম হাওলাদারকে বরিশাল মহানগরের কোতয়ালী থানায় পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মোঃ কাইয়ুম মুন্সীকে দিনাজপুর সদর থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।